"জীবনের মানে এই কি বেশি নয়? যার হারিয়ে গেছে সব কিছু, তার আর কিসের ভয়?"
জনপ্রিয় অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড হাইওয়ে (HIGHWAY)-এর বহুল আলোচিত অ্যালবাম "যাচ্ছি কোথায়"-এর ২য় ট্র্যাক 'আঁধারি' (Adhari)। ইথার-এর কথা, সুর ও দুর্দান্ত সংগীতে গানটি এক অন্ধকার বাস্তবতার গল্প বলে। হাতিরঝিলের সোডিয়াম আলো থেকে শুরু করে সমাজের অবহেলিত চরিত্রদের নিয়ে সাজানো এই দীর্ঘ ৯ মিনিটের মিউজিক্যাল জার্নিটি শ্রোতাদের মাঝে এক গভীর দাগ কেটে যায়।
একদিন মধ্য দুপুরে,
হাতিরঝিলের পাড় ধরে,
নিরিবিলি গাছগাছালির ভীরে,
প্রখর সূর্যটা আড়াল করে,
বসে আছে ক্লান্ত সেনাপতি,
মিলিয়ে নিচ্ছে জীবনে কি লাভ কি ক্ষতি,
ঘড়ি দেখে বুক ভরে নিঃশ্বাস,
পৃথিবিটা সুন্দর আমার বিশ্বাস।
কোন এক সন্ধার পরে,
চেনা যত দৃষ্টির অগচোরে,
সাইন বোর্ড ব্যাস্ত নগরি,
লাল সাদা আলো নিয়ে ছুটছে গাড়ি,
কে যেন বুক ভেঙ্গেছিল মনেপরে,
তাই সেই হাতিরঝিলের পাড় ধরে।
চারপাশে নিভু নিভু আলো,
গাছের ছায়া গুলো ছিল অনেক বেশিই কালো,
আমার ছায়া কাটে (হলুদ) সোডিয়াম আলো,
আবার কোথাও থম থমে নিকোশ কালো,
চোখ পরে আধারের কংক্রিট বিছানায়,
সে বিছানায় শুয়ে বসে তারা গুনছে সবাই,
ভুলে কেও গুনে বসে অদুরের লাল সাদা লাল লাল সাদা লাল হেডলাইট,
হাতে জ্বলে গরীবের বেন্সন cigarette স্টারলাইট,
আমিও ক্লান্ত হয়ে একটু আধার পেতে,
খুজে নিতে ঠিকানা, একটু এগিয়ে যেতে,
দেখি বসে আছে জোড়ায় জোড়ায়,
বসে আছে জোড়ায় জোড়ায়,
দেখি বসে আছে জোড়ায় জোড়ায়,
জীবনের মানে এই কি বেশি নয়?
যার হারিয়ে গেছে সব কিছু,
তার আর কিসের ভয়?
জীবন দেয়নি যাদের কিছু,
তারা ঘুড়ছে এ রাতে আমার পিছু পিছু,
অদুরে লেম্পপোস্টের এর ছায়ায়,
কে যেন কী বলছিল আমায় ইশারায়,
আমি তাকাতেই তার দিকে,
এগিয়ে আসতে থাকে আমার দিকে,
তারপর কাছাকাছি এসে,
এগিয়ে বসলো সে আমার পাশে,
দেখি এক রূপবতি নারী,
তার নাম দিলাম আধারি,
কারণ সে আলো দেখেনি বহুদিন,
তার স্বপ্ন সে এভাবেই হয়ে যাবে বিলিন।
অদূরেই ছুপ ছুপে আধারে,
কারা যেন বসে আছে ভীর করে, কাকে ঘিরে,
দেখি এক ছোট্ট মেয়ে,
হাতে চায়ের কেটলি নিয়ে,
তার মুখে মৃদু মৃদু হাসি,
তার নাম ছিল প্রেয়সী,
ঠিকানা চৌরাস্তার মোড়ে,
একটাই বিছানা ছোট্ট সে সাজানো ঘরে,
রাত হলে বাপ মা ঘুমিয়ে পড়ে,
ভাই থাকে কাওরান বাজারে,
রাত শেষে ভাইটা ঘুমায় ভোরে,
আর প্রেয়সী ঘুমাতে যায় মধ্য দুপুরে।
তারপর আধারিকে সাথে নিয়ে প্রেয়সীর কাছে যাই,
গিটারটা হাতে নিয়ে জীবনের গান গাই,
প্রেয়সীর নাচ দেখে বৈঠক মাতোয়ারা,
আরো যারা পাপি ছিল আনন্দে দিশেহারা,
দূরে বসে, সুপারির ব্যাবসায়ি মকবুল পাটোয়ারি,
তবলাতে, রসিক ফেরিওয়ালা কাশেম চৌধুরি,
গান চলে, কখনো মরিসন আর কখনো ভান্ডারি,
গিটারের তালে তালে মাথা নাড়ে মাতাল আধারি,
ছুটি পেল সময় আর ছুটি পেল লেনা দেনা,
আরো ছুটি পেলো যত কষ্টের ঠিকানা,
গল্পের চোখ সব এক সাথে হেরে যাই,
আজ কষ্ট চোদার ভিসা নাই।
নোট: লিরিক্সটি ব্যান্ডের অফিশিয়াল স্টুডিও রিলিজের সাথে মিলিয়ে শতভাগ নির্ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে। কোনো লাইন বা শব্দের পরিবর্তন করতে চাইলে নিচে Comment করুন।
"আঁধারি" গানটি একটি চমৎকার সিনেমাটিক গল্পের মতো গড়ে উঠেছে। এখানে প্রথাগত প্রেমের গল্প বাদ দিয়ে সমাজের এক অন্ধকার গলির বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। গানের মূল চরিত্র 'আঁধারি' এমন এক নারী যে অনেকদিন আলোর মুখ দেখেনি, আর 'প্রেয়সী' হলো এক চায়ের কেটলি হাতে থাকা ছোট মেয়ে যার পুরো পরিবারের দিন ও রাতের চক্রটাই উল্টো। এক অদ্ভুত সুর ও মেলোডিকার মায়াজালে শহরের বুকে ঘুরে বেড়ানো নিঃসঙ্গ, প্রান্তিক ও দিশেহারা মানুষদের আনন্দ-বেদনার এক অনবদ্য কোলাজ তৈরি করেছে হাইওয়ে ব্যান্ড।