Dujon Lyrics (দুজন) – Dola Rahman | Bonolota Sen Movie Song

দুজন লিরিক্স – দোলা রহমান | Dujon Lyrics – Bonolota Sen Movie

“আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন, কতদিন আমিও তোমাকে... খুঁজি রাখো এক নক্ষত্রের নিচে তবু একই আলো পৃথিবীর পারে।”
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ-এর এক অনন্য কালজয়ী ও দর্শনভিত্তিক কবিতা 'দুজন'। গুণী নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র 'বনলতা সেন' (Bonolota Sen - 2026)-এর জন্য এই বিশুদ্ধ ক্লাসিক কবিতাটিকে একটি বিষণ্ণ ও মায়াবী মেলোডিতে রূপান্তর করা হয়েছে। গানটির সুর ও চমৎকার কম্পোজিশন করেছেন খোদ মাসুদ হাসান উজ্জ্বল এবং এর অসাধারণ সঙ্গীতায়োজন করেছেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব বাপ্পা মজুমদার। কণ্ঠশিল্পী দোলা রহমান-এর মায়াবী ও দরদমাখা কণ্ঠে এই গানটি জীবনানন্দীয় প্রেম, বিচ্ছেদ, শূন্যতা এবং চিরন্তন প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন হিসেবে শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দিয়েছে। নিচে গানটির সম্পূর্ণ লিরিক্স ও ভেতরের গভীর ভাবার্থ তুলে ধরা হলো।

Dujon Lyrics Dola Rahman Bonolota Sen Movie
🎵 গানের তথ্য ও কলাকুশলী (Credits):
  • Song: DUJON (দুজন)
  • Words: Jibanananda Das (জীবনানন্দ দাশ)
  • Movie: Bonolota Sen (বনলতা সেন - ২০২৬)
  • Tune & Composition: Masud Hasan Ujjal
  • Music Arrangement: Bappa Mazumder
  • Voice: Dola Rahman (দোলা রহমান)
  • Produced By: Red October Films


📝 Dujon ( দুজন) Lyrics In Bengali

হুম আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন কতদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো এক নক্ষত্রের নিচে তবু একই আলো পৃথিবীর পারে। আমরা দুজনে আছি পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয় প্রেম ধীরে মুছে যায় নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয় হয় নাকি? বলে সে তাকাল তার সঙ্গিনীর দিকে আজ এই মাঠ সূর্য সহমর্মী অঘ্রাণ কার্তিকে প্রাণ তার ভরে গেছে। দুজনে আজকে তারা চিরস্থায়ী পৃথিবী ও আকাশের পাশে আবার প্রথম এল মনে হয় যেন কিছু চেয়ে কিছু একান্ত বিশ্বাসে। লালচে হলদে পাতা অনুষঙ্গে জাম বট অশ্বত্থের শাখার ভিতরে অন্ধকারে নড়ে চড়ে ঘাসের উপর ঝরে পড়ে তারপর সান্ত্বনায় থাকে চিরকাল। যেখানে আকাশে খুব নীরবতা শান্তি খুব আছে হৃদয়ে প্রেমের গল্প শেষ হলে ক্রমে ক্রমে যেখানে মানুষ আশ্বাস খুঁজেছে এসে সময়ের দায়ভাগী নক্ষত্রের কাছে সেই ব্যস্ত প্রান্তরে দুজন চারিদিকে ঝাউ আম নিম নাগেশ্বরে হেমন্ত আসিয়া গেছে চিলের সোনালি ডানা হয়েছে খয়েরী ঘুঘুর পালক যেন ঝরে গেছে শালিকের নেই আর দেরি হলুদ কঠিন ঠ্যাং উঁচু করে ঘুমাবে সে শিশিরের জলে ঝরিছে মরিছে সব এইখানে বিদায় নিতেছে ব্যাপ্ত নিয়মের ফলে। নারী তার সঙ্গীকে পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয় জানি আমি তারপর আমাদের দুঃস্থ হৃদয় কী নিয়ে থাকিবে বল একদিন হৃদয়ে আঘাত টের দিয়েছে চেতনা তারপর ঝরে গেছে আজ তবু মনে হয় যদি ঝরিত না। হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ আমাদের প্রেমের অপূর্ব শিশু আরক্ত বাসনা ফুরোত না যদি আহা আমাদের হৃদয়ের থেকে এই বলে ম্রিয়মাণ আঁচলের সর্বস্বতা দিয়ে মুখ ঢেকে উদ্বেল কাশের বনে দাঁড়িয়ে রইল হাঁটূভর। হলুদ রঙের শাড়ি চোরকাঁটা বিঁধে আছে এলোমেলো অঘ্রাণের ঝড় চারি দিকে শূন্য হতে ভেসে এসে ছুঁয়ে ছেনে যেতেছে শরীর চুলের উপর তার কুয়াশা রেখেছে হাত ঝরিছে শিশির প্রেমিকের মনে হল এই নারী অপরূপ খুঁজে পাবে নক্ষত্রের তীরে যেখানে রব না আমি রবে না মাধুরী এই রবে না হতাশা কুয়াশা রবে না আর জনিত বাসনা নিজে বাসনার মতো ভালোবাসা খুঁজে নেবে মৃতের হরিণীর ভিড় থেকে ইঙ্গিতেরে তার।

📝 Dujon Lyrics In Roman Character

Hum Amake khojo na tumi bohudin Kotodin amio tomake Khuji nako ek nokkhotrer niche tobu Eki alo prithibir pare. Amra dujone achi prithibir purono Pother rekha hoye jay khoy Prem dhire muche jay nokkhotrer-o ekdin more jete hoy Hoy naki? bole she takalo tar shongginir dike Aj ei math surjo shohomormi oghran kartike Pran tar bhore geche. Dujone ajke tara chirosthayi prithibi o akasher pashe Abar prothom elo mone hoy Jeno kichu cheye kichu ekanto bishwashe. Lalche holde pata onushongge jam bot oshotther shakhar bhitore Ondhokare nore chore ghaser upor jhore pore Tarpor shantonay thake chirokal. Jekhane akashe khub nirobota shanti khub ache Hridoye premer golpo shesh hole krome krome jekhane manush Ashwash khujeche eshe shomoyer daybhagi nokkhotrer kache Shei byasto prantore dujon charidike jhau am nim nageshwore Hemonto ashiya geche chiler shonali dana hoyeche khoyeri Ghughur palok jeno jhore geche shaliker nei ar deri Holud kothin thyang uchu kore ghumabe she shishirer jole Jhoriche moriche shob eikhane biday niteche byapto niyomer fole. Nari tar shonggike prithibir purono pother rekha hoye jay khoy Jani ami tarpor amader dustho hridoy Ki niye thakibe bolo ekdin hridoye aghat ter diyeche chetona Tarpor jhore geche aj tobu mone hoy jodi jhorito na. Hridoye premer shirsho amader premer opurbo shishu aroktu bashona Phuroto na jodi aha amader hridoyer theke Ei bole mriyoman acholer shorboshwota diye mukh dheke Udbel kasher bone dariye roilo hatubhor. Holud ronger shari chorkata bidhe ache elomelo oghraner jhor Chari dike shunno hote bhese eshe chuye chene jeteche shorir Chuler upor tar kuasha rekheche hat jhoriche shishir Premiker mone holo ei nari oporup khuje pabe nokkhotrer tire Shekhane robo na ami robe na madhuri ei robe na hotasha Kuasha robe na ar jonito bashona nije bashonar moto bhalobasha Khuje nebe mriter horinir bhir theke inggiteret tar.

Note: These lyrics and interpretations are compiled by the Gaanerbol team. For any corrections, feel free to let us know in the comments.

See More Lyrics

🔍 Behind The Lyrics: জীবনানন্দীয় বিষণ্ণতা, মহাজাগতিক প্রেম ও ক্ষণস্থায়ী মানবজীবন

চলচ্চিত্র 'বনলতা সেন'-এর 'দুজন' গানটি মূলত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপক-আশ্রয়ী কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার এক সুরময় রূপান্তর। জীবনানন্দের আর সব সৃষ্টির মতোই এই গানেও প্রেম এবং প্রকৃতি আলাদা কোনো উপাদান নয়, বরং একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। গানের শুরুতেই— "আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন, কতদিন আমিও তোমাকে"— এক দীর্ঘ বিচ্ছেদ এবং যোজন যোজন দূরত্বের অবহ তৈরি করে। একই নক্ষত্রের নিচে, একই পৃথিবীর আলোতে বাস করেও দুজন মানুষ যখন একে অপরের থেকে হারিয়ে যায়, তখন তাদের অস্তিত্ব কেবল স্মৃতির ধূসর রেখায় বেঁচে থাকে।

গানের অন্যতম গভীর ও দার্শনিক লাইন হলো— "প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়"। কবি এখানে মানুষের আবেগ আর মহাবিশ্বের নিয়তিকে একই পাল্লায় মেপেছেন। মানুষের তৈরি তীব্র ভালোবাসা বা প্রেমও সময়ের নিয়মে একসময় ফিকে হয়ে যায়, ঠিক যেভাবে কোটি কোটি বছর ধরে আলো দেওয়া আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রটিরও একদিন আয়ু ফুরিয়ে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। এই মহাজাগতিক সত্যকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কের ক্ষণস্থায়ী রূপটি ফুটে ওঠে। কার্তিকের মাঠ, লালচে-হলদে পাতা, জাম ও বটগাছের অন্ধকার ডালপালা এবং ঘাসের ওপর ঝরে পড়া পাতার অনুসঙ্গে এক তীব্র হেমন্তের উদাসীনতা ও নস্টালজিয়া তৈরি করা হয়েছে।

গানের শেষার্ধে বিচ্ছেদ ও ক্ষয়ের পর মানুষের বিপন্ন মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে— "জানি আমি তারপর আমাদের দুস্থ হৃদয় কি নিয়ে থাকিবে বল"। ভালোবাসা হারিয়ে যাওয়ার পর মানব হৃদয় যে তীব্র শূন্যতা ও ক্ষত বুকে নিয়ে বেঁচে থাকে, তা এক বড় ট্র্যাজেডি। "ঘুমাও তুমি শিশিরের জলে ঝরেছে মরেছে সবই এখানে, বিদায় নিতেছে প্রাপ্ত নিয়মের ফলে"— প্রকৃতির এই নিয়মেই সবকিছু একদিন শেষ হয়, ঝরে পড়ে এবং মানুষ বিদায় নেয়। কিন্তু এই নির্মমতা আর হতাশার মাঝেও জীবনানন্দীয় প্রেম শেষ পর্যন্ত এক মহাজাগতিক আশ্বাসের খোঁজ করে, যেখানে সমস্ত জাগতিক দুঃখ ভুলে ভালোবাসা তার নিজস্ব আশ্রয় খুঁজে নেয় "হরিণীর ভিড় থেকে এক শীতের তা" এর মতো নিবিড় কোনো অনুভবে।

🌐 Key Phrases Explained (শব্দার্থ ও অন্তর্নিহিত ভাব)

  1. “নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়” — মহাবিশ্বের কোনো কিছুই যেমন অমর নয়, তেমনি মানুষের পরম যত্ন এবং আবেগে গড়া গভীর সম্পর্ক বা প্রেমও সময়ের আবর্তে একদিন শেষ হয়ে যায়— এই পরম বাস্তবতার বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক রূপক।
  2. “অভ্রান্ত কার্তিকে প্রাণ তার ভরে গেছে” — জীবনানন্দের অতি প্রিয় ঋতু হেমন্তের (কার্তিক) রূপক, যা একই সাথে শূন্যতা, ফসল কাটা এবং প্রকৃতির ঝরে পড়ার বার্তা দিলেও এক অদ্ভুত শান্তিতে মন ভরিয়ে দেয়।
  3. “আমাদের দুস্থ হৃদয় কি নিয়ে থাকিবে বল” — পরম আশার আলো বা ভালোবাসার আশ্রয়টি হারিয়ে যাওয়ার পর মানুষের একাকী এবং সহায়-সম্বলহীন মনের তীব্র হাহাকার।
  4. “বিদায় নিতেছে প্রাপ্ত নিয়মের ফলে” — জন্ম, মৃত্যু, মিলন ও বিচ্ছেদ প্রকৃতির এক অমোঘ এবং অবধারিত নিয়ম; যা কোনো মানুষই এড়াতে পারে না।

💡 Gaanerbol Thoughts

জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে সুরে বাঁধা এবং তার সেই চিরন্তন 'মেলাঙ্কোলিয়া' বা বিষণ্ণতার আবহকে মিউজিকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা ভীষণ কঠিন একটি কাজ। তবে সুরকার মাসুদ হাসান উজ্জ্বল এবং সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদার সেই চ্যালেঞ্জটি দারুণভাবে জয় করেছেন। বাপ্পা মজুমদারের সিগনেচার অ্যাকোস্টিক অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং দোলা রহমানের গম্ভীর ও আবেগঘন গায়কী শ্রোতাকে সরাসরি জীবনানন্দের সেই কুয়াশায় ঘেরা রূপসী বাংলায় নিয়ে যায়। এটি কেবল চলচ্চিত্রের কোনো সাধারণ গান নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের এক পরম শৈল্পিক উদযাপন। নিঝুম রাতে একা একা চোখ বন্ধ করে জীবন ও সময়ের গভীর দর্শন উপলব্ধি করার জন্য এটি একটি মাস্টারপিস ট্র্যাক।

জীবনানন্দ দাশের এই মহাজাগতিক দর্শন ও সুরের মেলবন্ধন আপনার হৃদয়কে কতটুকু ছুঁতে পারলো? গানের কোন উপমাটি আপনার সবচেয়ে বেশি প্রিয়? নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

Post a Comment

Previous Post Next Post